শনিবার, ২৮ মে, ২০১৬

খিলাফতের পতনে আমরা কী হারালাম …

কোন মন্তব্য নেই:

খিলাফতের পতনে আমরা কী হারালাম …
.
১৯২৪ সালের ৩ মার্চ পতন হয়েছে উসমানি খিলাফতের । সদ্য অতিবাহিত হয়ে গেল খিলাফত পতনের পূর্ণ নব্বই বছর।

আসুন, দেখি ! এই নব্বই বছরে আমরা কী কী হারালাম ?

.

(মুসলিম বিশ্বে চালানো গণহত্যার ইতিহাস নির্ভর পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে নিম্নোক্ত তথ্যাদি প্রদান করা হল)

– ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন দখল করল সন্ত্রাসী ইহুদীরা । এতে এ যাবত আনুমানিক শহীদ হয়েছেন, ১৯ লক্ষ মুসলমান । উদ্ধাস্তু হয়েছেন প্রায় ৫০ লক্ষ মুসলমান ।

– ১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হয় তখন নিহত হয়েছিলেন প্রায় ১ কোটি মুসলমান ।

– ইটালী লিবিয়া আক্রমণের সময় শহীদ হন প্রায় ৫ লক্ষ মুসলমান ।

– ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ জন্মের সময় নিহত হোন (কথিত) আরো ৩০ লক্ষ মুসলমান, (সত্য-মিথ্যা আল্লাহ ভালো জানেন, নির্ভরযোগ্যসুত্রে যদি কেউ নিশ্চিত সংখ্যা জানান, তাহলে সংশোধন করার অবকাশ আছে) ।

– চেচনিয়ায় এ যাবত শহীদ ৫ লক্ষ ।

-বসনিয়ায় ১০ লক্ষ ।

– বার্মায় ১৫ লক্ষ ।

-আফগানিস্তানে রাশিয়া-আমেরিকা মিলে ২৫ লক্ষ ।

– ইরাকে ইরান- আমেরিকার সাথে কয়েকবারের লড়াইয়ে নিহতের সংখ্যা ১৫ লক্ষ ।

– জিংজিয়াংয়ে ১৫ লক্ষ ।

– ফিলিপাইনে ৫ লক্ষ ।

– আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ৩০ লক্ষ ।

-কাশ্মীরে ৫ লক্ষ ।

– ভারতে ১০ লক্ষ ।

– বুলগেরিয়া, কসাভো, আলবেনিয়া সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আরো১০ লক্ষ ।

– সিরিয়ায় বাশারের বাপ হাফিজের আমল থেকে এখন পর্যন্ত ৩ লক্ষ ।

– তাছাড়া ইয়েমেন, লেবানন, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে আরো ১০ লক্ষ ।

তাহলে বুঝা গেলো খিলাফত পতনের পর ৯০ বছরে মুসলমানদের নিহতের সংখ্যা হলো প্রায় আড়াই কোটি, উদ্ধাস্তু আনুমানিক ৫০ কোটি । হারানো মুসলিম ভূ-খন্ড হলো ফিলিস্তিন, পুর্বতুর্কিস্তান (জিংজিয়াং), মিন্দানাও, দক্ষিণ সুদান, পুর্ব-তিমুরসহ আরো অনেকভূমি ।

আসুন, এবার দেখি খিলাফত থাকাকালে আমাদের অবস্থা কী ছিল ?
জেনে রাখা প্রয়োজন যে, নবীজীর ইন্তেকালের পর ধারাবাহিকভাবে প্রায় সোয়া তেরশ' বছর পর্যন্ত খিলাফত ছিল । মধ্যখানে একবার তাতারীরা যখন বাগদাদে অবস্থিত আব্বাসি খিলাফত ধ্বংস করেছিল তখন ১২৫৮ – ৬১পর্যন্ত মুসলমানদের কোনো খলীফা ছিলেন না ।

এই সাড়ে তেরশ' বছরে মুসলমানদের যেসব রক্তপাত হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :-

খেলাফতে রাশেদার আমলে এবং উমাইয়া আমলে বিভিন্ন লড়াইয়ে অনুমানিক দেড় লক্ষ । ক্রুসেডাররা বায়তুল মুকাদ্দস দখলের সময় ১ লক্ষ এবং পরবর্তী লড়াইয়ে আরো ২ লক্ষ । তাতারী সয়লাবে বোখারা, সমরকন্দ, শীরাজ, বাগদাদ এবং দামেস্কে অনুমানিক ৫০ লক্ষ । স্পেনে ২০ লক্ষ । আরো বিভিন্ন লড়াইয়ে অনুমানিক আরো ৫০ লক্ষ । তাহলে বুঝা গেলো খিলাফত থাকাকালে সোয়া তেরশ বছরে মুসলমানদের নিহতের সংখ্যাহচ্ছে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ।

ভু-খন্ড হারিয়েছি স্পেন । আবার ইসলামের ছায়াতলে এসেছে স্পেন এবং ইউরোপের দানিয়ুব নদী পর্যন্ত এবং বর্তমান মুসলিমবিশ্ব ।

আর খিলাফতছাড়া মাত্র ৯০ বছরে আমাদের নিহতের সংখ্যা হলো আড়াইকোটি । বিজয় করেছি শূন্য (০) ভুমি । হারিয়েছি অসংখ্য মুসলিম ভূ-খন্ড ।

তাই আমাদের উচিত, একবার আমেরিকা, আরেকবার রাশিয়া, অন্যবার চীনের উপর নির্ভর না করে অতি তাড়াতাড়ি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা । কারণ নবীজী(সাঃ) বলেছেন,

” খিলাফত আবার আসবে নবুওতের আদলে ! “(মুসনাদে আহমদ , মিশকাত)

নতুবা আমাদের নিহতের সংখ্যা এবং হারানো ভু-খন্ডের তালিকা বাড়তেই থাকবে ।

এবার বুঝতে পারছেন তো খিলাফতের পতনে আমরা কী কী হারালাম ।

এটা ইতিহাস অধ্যয়নের পর আমার আনুমানিক হিসাব, তাই কোনো বইয়ের সুত্র দিতে পারব না । শুধু এতটুকু বলবো, আপনারা ইতিহাস পড়ুন, তাহলে বুঝতে পারবেন, আমার পরিসংখ্যান কতটুকু সঠিক ।

আলহামদুলিল্লাহ ! তবে সুসংবাদ হচ্ছে যে, খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হাতেগোনা কয়েকটি দল কার্যকরী ভুমিকা পালন করতেছে । এর মধ্যে তালেবান-আলকায়দা হচ্ছে অন্যতম প্রধান । এ যাবত আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন, মালি, সোমালিয়া সহ বিশ্বের অনেক অঞ্চলে তারা শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করেছে ।
সারা মুসলিমবিশ্বকে এক পতাকার তলে নিয়ে আসার লক্ষ্যে তারা ‘নুসরাতুল ইসলাম’ (ইসলামের সমর্থনে প্রামাণ্য পত্র) নামে একটি গাইডবুকও বের করেছে ।

https://archive.org/…/Islamer_shomorthone_ekti_pramannopotr…
সাত পদবিশিষ্ট একতার এই মুলভিত্তির ষষ্ঠ পদ হচ্ছে, খিলাফাতে ইসলামিয়্যাহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে এক করা ।

আল্লাহ তাআলা তাদের কাজে বরকত দিন এবং আমাদেরকে তাদের পতাকাতলে এক হবার তাওফিক দিন …আমীন …
(সংগৃহীত)

‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ইসলাম কায়েম’ ইস্যুতে ইমাম আনোয়ার আল আওলাকি যা বললেন.......

কোন মন্তব্য নেই:

#‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ইসলাম কায়েম’ ইস্যুতে ইমাম আনোয়ার আল আওলাকি যা বললেন.......
.
গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবর্তনের প্রবক্তারা এই কথা বলে শুরু করেন যে, গণতন্ত্র কুফর এবং আমরা এতে বিশ্বাস করি না, কিন্তু আমরা এটিকে ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করছি এবং আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার পর ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবো।
.
এ কথাই আমি শুনছি ৮০’র শেষ ও ৯০’র শুরু পর্যন্ত ইখওয়ানের প্রত্যেক নেতৃস্থানীয় সদস্য থেকে।
.
আমার পরিষ্কার মনে আছে সেই গণ-আলোচনার কথা যা ঘটেছিল এই বিষয়ের উপর,কারণ তখন সালাফীরা এই পয়েন্টে ইখওয়ানের ঘোর বিরোধী ছিল। আমার এও স্পষ্ট মনে আছে ইখওয়ানের কয়েকজন শাইখের সাথে আমার সেই একান্ত আলোচনার কথা যেখানে তাঁরা বারংবার বলছিলেনঃ গণতন্ত্র অনৈসলামীক এবং আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এর (অর্থাৎ গণতন্ত্রের) মধ্যে থেকে সিস্টেমের পরিবর্তন করা।
.
এই পদ্ধতির মধ্যে তিনটি সমস্যা আছেঃ
.
প্রথমতঃ গণতন্ত্রকে ব্যবহার করা এবং গণতান্ত্রিক সিস্টেমের অনুগামী বলে দাবী করা কিন্তু তাতে বিশ্বাস না রাখা –
.
এটি একটি প্রতারণা ও মিথ্যাচার। এখন শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতারণা গ্রহণযোগ্য, যদি মুসলমানরা তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। সমস্যাটা হল, এই বিশেষ দলগুলো যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত; বিশ্বাস করে না যে তারা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত আছে, বরং বিশ্বাস করে যে, মুসলমান ও কাফেরদের মাঝে চুক্তি আছে। সুতরাং যদি আমরা কাফেরদের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকি তাহলে তাদের (কাফেরদের) সাথে প্রতারণা করা গ্রহণযোগ্য নয় এবং মিথ্যা বলাও গ্রহণযোগ্য নয়। এটাই হচ্ছে প্রথম সমস্যা।
.
পরবর্তী সমস্যা হল, আপনি যখন একটি মিথ্যাকে যথেষ্ট পরিমাণ দীর্ঘ সময় ধরে পুনরাবৃত্তি করবেন তখন শেষ পর্যন্ত আপনি তাই বিশ্বাস করবেন।
.
যারা এইসব দলগুলোকে ৮০’র দশক থেকে দেখেছিলেন, সময়ের সাথে এইসব দলগুলোর যে কি পরিমাণ পরিবর্তন ঘটেছে তা দেখে তাদের কাছে এটা বিস্ময়কর লাগে। এখন তারা বলছে এবং আমিও তাদের বিশিষ্ট সদস্যদের কাছ থেকে বহুবার শুনেছি যে, “এখন আমরা আসলেই গণতান্ত্রিক সিস্টেমে বিশ্বাস করি। আমরা বুলেট নয় ব্যালটে বিশ্বাস করি। এবং যদি ব্যালট একটি ধর্মনিরপেক্ষ অথবা কাফের দলকে জয়ী করে তাহলে আমরা তাই গ্রহণ করবো!!”
.
মুসলমান হিসাবে আমাদের ইসলামকে মানুষের খামখেয়ালীর বিষয় বানানো উচিত না যে, যদি তারা এটি (অর্থাৎ  ইসলাম /ইসলামী শরীয়াহ) বেছে নেয় আমরা তা বাস্তবায়ন করব, আর যদি তা না করে তবে আমরা জনসাধারণের পছন্দ মেনে নিব। আমাদের অবস্থান এই যে, আমরা পৃথিবীতে তলোয়ারের ডগা দিয়ে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করব; জনসাধারণ এটি পছন্দ করুক বা না করুক। আমরা শরীয়াহ শাসনকে জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতার বিষয় বানাবো না।
.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন-

“আমাকে তলোয়ার সমেত পাঠানো হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত না একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার উপাসনা করা হয়।”
(মুসনাদে আহমাদ)
.
এই পথই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পথ, যে পথ আমাদের অনুসরণ করা উচিত।
.
চূড়ান্ত সমস্যা হল, মুসলমানদের প্রক্রিয়া, অনুপ্রবেশের প্রক্রিয়া নয়।
.
মুসলমানরা ওই(গণতন্ত্র) সিস্টেমে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে না এবং তার মধ্যে থেকে কাজও করে না। এটি আমাদের পথ না। এটি ইহুদী ও মোনাফেকদের পথ, কিন্তু মুসলমানদের পথ না। আমরা বন্ধু ও শত্রুর সাথে সৎ ও অকপট(বা অক্রূর)। আমরা আমাদের উদ্দেশ্য উন্মুক্ত রাখি এবং আমরা প্রকাশ্যে আমাদের দাওয়াহ ঘোষনা করি, “তোমার জন্য তোমার দ্বীন আর আমার জন্য আমার দ্বীন।”
আমরা এই(গণতান্ত্রিক) সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করতে চাই না, হোক তা আমেরিকায় অথবা কোন একটি মুসলিম দেশে। ইহুদীরাই একমাত্র সকল সরকার ব্যবস্থায়(যার অধীনেই তারা ছিল) অনুপ্রবেশ করেছে, হোক তা আল-আন্দালুস (ইসলামিক স্পেন) ও ওসমানীয় খিলাফা অথবা আজকের পশ্চিমা সরকারসমূহ। তাদের(ইহুদীদের) গোপন এজেন্ডা আছে, আমাদের (মুসলমানদের) নাই।
.
ইহুদী ও তাদের দোসর মোনাফিকরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সরকার ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করেছিল এবং কুরআন দ্বারা তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছিল-
.
“এবং এক দল কিতাবধারী (একে অপরকে) বলাবলি করছিল, মুমিনদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, দিনের শুরুতে তা বিশ্বাস কর আর দিনের শেষে তা অস্বীকার (বা পরিত্যাগ) কর, যাতে তারা(অর্থাৎ মুমিনরা) ফিরে যায় (অর্থাৎ, তাদের ধর্ম পরিত্যাগ করে)।”
.
সুতরাং তাদের পরিকল্পনা ছিল যে, তারা মুমিনে পরিণত হবে এবং মুসলিমদের মাঝে আসবে, শুধুমাত্র দিন শেষে তা পরিত্যাগ করার জন্য। আল্লাহ মোনাফেকদের বিষয়েও বলেছেন যে, তাদের পরিকল্পনা ছিল যে, তারা মুমিনদের সাথে বসবে এবং যা শুনবে তা ইহুদীদের নিকট পৌছে দেবে।
.
সুতরাং, যারা বলে আমাদের এই (গণতান্ত্রিক) সিস্টেমের সাথে থেকে এটিকে পরিবর্তন করা উচিত তারা মুসলমানদের পথ অনুসরণ করছে না এবং যদি চারিত্রিকভাবে তারা মুসলিম হয়ে থাকে, তবে তারা ব্যর্থ হবে। কারণ অনুপ্রবেশ মুসলিম আচরণের সাথে খাপ খায় না।
কিন্তু যদি তারা এই(গণতান্ত্রিক) সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম (বা সফল) হয়, তাহলে তা প্রমান করে যে, তাদের চরিত্র ইহুদী বা মোনাফেকদের চরিত্রে পরিনত হয়েছে, মুসলমানদের চরিত্রে নয়।
.
একটি বিষয় এর সাথে সম্পর্কিত আর তা হচ্ছে, যারা ইসলামী পরিবেশ থেকে উঠে এসেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বর্তমান রাজনৈতিক সিস্টেমের মধ্যে কাজ করেছে তারা শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদে পরিণত হয়েছে, যাদের প্রক্রিয়ায় রয়েছে কূটনৈতিক, রঙ-বদল, বস্তুবাদী ও কৌশলী ইত্যাদি শব্দের সকল নেতিবাচক অর্থসমূহ। তারা হয়তো ইসলামী আন্দোলনের শক্ত তারবিয়াহ কর্মসূচির মধ্যে পালিত হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিন পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তারাই নেকড়েতে পরিণত হয়েছে, যাকে তারা পরিবর্তন করতে চেয়েছিল।
.
আমি এইসব আমার নিজ চোখেই দেখেছি যা আমার পরিচিত মানুষদের ক্ষেত্রে ঘটেছে এবং ইয়েমেন ভিত্তিক ইসলামী আন্দোলনের এক নেতা বলেছেনঃ “আমরা তাদেরকে ভেড়া হিসাবে নেকড়েদের জগতে পাঠাই একটি কঙ্কাল সাবাড় হিসাবে ফেরত পেতে।”
.
আপনি যদি জীবন্ত উদাহরণ চান; এটি দেখতে যে, সিস্টেমের (গণতান্ত্রিক সিস্টেমের) মধ্যে থেকে কাজ করলে তার ফলাফল কি হয়, তাহলে সুদান ও তুর্কির চেয়ে বেশী দূর তাকানোর দরকার নেই। দুই দেশেরই ক্ষমতাসীন দলগুলো ইসলামীক আন্দোলন দিয়ে শুরু করে শেষ পর্যন্ত অন্য সবার মতো পঁচা ও দূষিত পরিবেশে গিয়ে শেষ হয়েছে।
.
[ ইমাম আনোয়ার আওলাকিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, খিলাফত প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি সম্পর্কে, উত্তরে শাইখ প্রস্তাবিত ৪ টি পদ্ধতি (দাওয়াহ, গণতন্ত্র, নুসরাহ, জিহাদ) নিয়েই আলোচনা রাখেন। আমি এখানে শুধু গণতন্ত্র সম্পর্কে শাইখের বক্তব্য তুলে ধরেছি।

#আমি কেন জংগী হলাম?

কোন মন্তব্য নেই:

#আমি কেন জংগী হলাম?
.
(এক আরব মুজাহিদ ও সৌদি হুকুমত)
.
তাগুতের হাতে গ্রেফতারের পূর্বে এক শহীদ আরব মুজাহিদের লিখা শেষ প্রবন্ধ অনুকরণে-
.
আহমাদ--নাবীল
.
#এক
আমি একজন মুসলিম। ইসলামকে ভালবাসি। পূর্ণ দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করি। জিহাদ একটি ইবাদাত। দ্বীনের একটি বিধান। আমি এই বিধানকেও পালন করার চেষ্টা করি। এই বিধান যারা আদায় করে তাদেরকে ভালবাসি।
এই বিধান আদায়ের ফলে অনেকে আমাকে সন্ত্রাসী, জঙ্গি বলে। আমি সন্ত্রাসী হিসাবে সৌদি সরকারের কাল তালিকাভুক্ত, একজন মোস্ট ওয়ান্টেড। আমি বুঝিনা! কেন তারা আমাকে সন্ত্রাসী  হিসাবে আখ্যায়িত করে, আমি আজ কেন ওয়ান্টেড?
.
আমার জিজ্ঞসাঃ কেন আমি ওয়ান্টেড পার্সন হলাম?
.
চার দিক থেকে জবাব আসতে লাগলঃ সন্ত্রাস......... সন্ত্রাস ...... (জঙ্গিবাদ)। তুমি সন্ত্রাসী (জঙ্গি)। আর সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সন্ত্রাসকে দমন করা, জঙ্গিবাদের নির্মূল করা।
.
ঠিক আছে .........।
.
সন্ত্রাসের এই অপরাধ থেকে আমি মুক্ত হতে চাই,যার ফলে আমি আজ মোস্ট ওয়ান্টেড,
আমাকে বন্দি ও হত্যা করা সরকারের দায়িত্ব।
.
বলুন, কি সেই সন্ত্রাসটি?
উত্তরঃ মানুষ হত্যা ...............।
.
কিন্তু ...............,
সৌদি সরকারও তো মানুষ হত্যা করে .........। তারা শায়েখ ইউসুফ আল-ওয়াইরী, বীর মুজাহিদ দান্দানী সহ অন্যান্য আলেম ও মুজাহিদীনদেরকে হত্যা করেছে।
তাহলে সৌদি সরকারও সন্ত্রাসী সুতরাং আমরা  যখন উভয়েই সন্ত্রাসী
আমাদের উপর আবশ্যক হচ্ছে কাঁধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক সাথে সামনে বাড়া,
তাহলে আমি তাদের কাছে ওয়ান্টেড হলাম কেন?
নাকি সৌদি সরকার আমার থেকে ভিন্ন?
কেননা সৌদি সরকার যাদেরকে হত্যা করেছে তারা সন্ত্রাসী?
.
ভাল কথা!.........
আমিও তো সন্ত্রাসীদেরকেই হত্যা করেছি।
.
আমেরিকানরা কি সন্ত্রাসী নয়?
ইরাক, আফগানস্থান ফিলিস্তিন সহ অন্যান্য ভূখণ্ডে অ্যামেরিকা যে সন্ত্রাস করেছে,
এর চেয়ে বড় কোন সন্ত্রাস হতে পারে?!!
.
আমিও সন্ত্রাসীদেরকে হত্যা করলাম, সৌদি সরকারও সন্ত্রাসীদেরকে হত্যা করল!! 
তাহলে আমি কেন সন্ত্রাসী হব? অথচ আমরা উভয় একই কাজ করছি,
সন্ত্রাসীদেরকে হত্যা করছি?!!
.
বরং সৌদি সরকারই এমন অনেককে হত্যা করছে যারা সন্ত্রাসী নয় ......।
তারা মার্কিন বাহিনীকে সহায়তার মাধ্যমে ইরাকের সধারন জনগণকে হত্যা করেনি?!!
.
নাকি সৌদি সরকার আমাকে ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী হিসাবে কাল তালিকাভুক্ত করেছে এ কারণে,আমি ঐ সৈনিকদেরকে হত্যা করেছি যারা অ্যামেরিকান সন্ত্রাসীদেরকে পাহারা ও নিরাপত্তা দিত?!! 
.
তাহলে সৌদি সরকার কি ঐ সমস্ত ব্যক্তিদেরকে হত্যা করেনি,
যারা সন্ত্রসীদেরকে পাহারা দিত?!! যেমনটি করেছে তারা কাসীমের মধ্যে।
অ্যামেরিকান সন্ত্রাসীদের পাহারাদার আর অন্যান্য সন্ত্রাসীদের পাহারাদারদের মাঝে,
কি এমন পার্থক্য বিদ্যমান?!!! 
.
.
#দুই
মনে হয়, এখন আমি বুঝতে পেরেছি ............।
সৌদি সরকার আমাকে ওয়ান্টেড ঘোষণা দিয়েছে কারণ আমি সন্ত্রাসীদের বন্ধু, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল,আর নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসীর বন্ধুও সন্ত্রাসী।
.
কিন্তু সৌদি সরকার ঘোষণা দেয়নি কি, যে অ্যামেরিকা তাদের বন্ধু?!!
পৃথিবীর সব চেয়ে শ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী কি অ্যামেরিকা নয়?!!
সৌদি ও অ্যামেরিকার মধ্যকার প্রতিটি ক্ষেত্রে মন্ত্রীরা গভীর সম্পর্কের ব্যাপারটা কি নিশ্চিত করেনি?!!
.
অনুগ্রহ করে আমাকে জবাব দাওঃ
কেন আমি ওয়ান্টেড হলাম?!!!
আমি যেমন সন্ত্রাসী সৌদি সরকারও কি একই রকম সন্ত্রাসী নয়?!!
তাহলে সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে তাদের ভ্রাতাকে কীভাবে তারা তাড়া করে?
.
আমি হত্যা করেছি অ্যামেরিকান সন্ত্রাসীদের পাহারাদারদেরকে,
সৌদি হুকুমত হত্যা করছে শরয়ী ইসলামী ‘সন্ত্রাসীদের” আশ্রয় দাতাদেরকে।
আমি যেমন সন্ত্রাসীদেরকে ভালবাসি তাদের প্রতি সহানভুতি প্রকাশ করি,
সৌদি সরকার মার্কিন সন্ত্রাসীদেরকে ভালবাসে, তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে। বরং তারা এই বন্ধুত্ব নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে থাকে।
.
.
#তিন
হতে পারে-আমি ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী,
কারণ আমি মুসলিমদের দেশে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছি।
.
কিন্তু ..................।
ইরাক মুসলিমদের দেশ,
অ্যামেরিকা ইরাকে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
জঙ্গি বিমান থেকে মিসাইলের আঘাতে পুরো দেশকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছে।
অথচ সৌদি, অ্যামেরিকাকে ওয়ান্টেড হিসাবে আখ্যায়িত করে না।
এমনকি শত্রু পর্যন্ত ভাবে না বরং তাদেরকে সাহায্য করে।
.
সৌদি সরকারের কাছে কোন প্রমাণ আছে কি, যে আমি সন্ত্রাসীদেরকে কোন সাহায্য করেছি?
যদি থাকে তাহলে ভাল কথা,
একই ভাবে সৌদি সরাকারও অ্যামেরিকান সন্ত্রাসীদেরকে,
তাদের সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে।
.
আমি কি তাদের আশ্রয় দিয়েছি?
সৌদি সরকার মার্কিন বাহিনীকে আশ্রয় দিয়েছে।
.
আমি কি তাদের অস্ত্রের হেফাজত করেছি?
সৌদি সরকার সৌদিকে অ্যামেরিকার অস্ত্র গুদাম বানিয়েছে।
.
তারা কি আমার কাছ থেকে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে?
মার্কিন বিমানগুলো সৌদি থেকে ইরাকে যেয়ে তাদের সন্ত্রাস পরিচালনা করছে।
.
আমি কি তাদেরকে মাল দিয়ে সাহায্য করছি?
অথচ ইরাক-আফগানের যুদ্ধে সৌদি হচ্ছে,
অ্যামেরিকান সন্ত্রাসীদেরকে সাহায্যকারী অন্যতম একটি রাষ্ট্র।
.
ওহে সৌদি শাসকগুষ্ঠি! তোমরা লক্ষ্য কর, আমরা আর তোমরা উভয়েই সন্ত্রাসের অংশীদার!
হ্যাঁ তবে যদি আমি তোমাদের থেকে বেশী করে থাকি আলহামদুলিল্লাহ্! কেননা আমি মুসলিম।
.
.
#চার
হ্যাঁ এখন আমার বুঝে এসেছে......!
আমি সন্ত্রাসী। কেননা আমি সৌদি শাসকদেরকে তাকফীর করেছি।
.
কিন্তু ..................!
খালীজের যুদ্ধের সময় তো সৌদি সরকারও সাদ্দামকে তাকফীর করেছিল?!!
.
সৌদি সরকার সাদ্দামকে কেন তাকফীর করল?
এই কারণে তাকফীর করেছে, সে আল্লাহ্ তায়ালার বিধান ছাড়া ভিন্ন বিধানে শাসন পরিচালনা করে?
সৌদি সরকারও তো আল্লাহ্ তায়ালার বিধান ব্যতিরেকে ভিন্ন বিধানে শাসন পরিচালনা করে থাকে।
.
আর আমি তো তাকফীরে এই ফাতওয়া পেয়েছি সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়েখ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম আলে-শাইয়েখ রহঃ এর ফাতওয়া থেকে, যার ফলে এই ফাতওয়া সৌদি সরকার বাজারে নিষিদ্ধ করেছে।  শায়েখ আবদুল্লাহ বিন হামীদ সহ অন্যান্য শায়েখদের থেকেও একই ফাতওয়া বিদ্যমান আছে।
.
আর আমি দেখছি বিলাদুল হারামাইনের অধিকাংশ বিষয়ে,
মানব রচিত আইন দ্বারা ফায়সালা করা হয়।
.
তাহলে কেন তারা সাদ্দামকে তাকফীর করল?
উত্তরঃ এ কারণে, সে একজন বাথিস্ট?
বাথিস্ট কি? এই শব্দে তো ঈমান ভঙ্গের কারণ সমূহের মধ্যে কোন কারণ বিদ্যমান নেই।
তারা কি এ কারণেই কুফর মনে করে না যে, বাথিস্টদের কাছে সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্বর মাপকাঠি হচ্ছে দ্বীনের পরিবর্তে জাতীয়তা। ?
.
সৌদির কাছেও তো সম্পর্ক ও বন্ধুত্বয়ের মাপকাঠি,দ্বীনের পরিবর্তে দেশ ও আরব জাতীয়তার উপর।
.
বাথিস্টরা কি এ জন্য কাফের,
কেননা তাদের কাছে একজন আজমি মুসলিমের চেয়ে আরবি কাফের শ্রেষ্ঠ?
আরব জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সৌদি শাসকদের কাছে একজন আরবি কাফের
একজন বাংলাদেশী মুসলিমের চেয়ে উত্তম।
.
হ্যাঁ যদি আমি এ কারণেই সন্ত্রাসী হই যে,
আমি সৌদি সরকারকে কাফের মনে করি।
তাহলে সৌদি সরকারও এ জন্য সন্ত্রাসী যে,
তারা সাদ্দাম হুসাইন কে কাফের মনে করে।
.
বরং সৌদি সরকার এ ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে------
১১ সেপ্টেম্বরের মোবারক আক্রমণ পরিচালনাকারী বীরদেরকে
সুলতান বিন আব্দুল আযীয তাকফীর করেছে,
সে বলেছে তারা নাকি ইসলামী মিল্লাত থেকে খারেয হয়ে গেছে।
.
তাহলে যে ভাবে আমি ওয়ান্টেড একই ভাবে সুলতান বিন আব্দুল আযীযও যেন ওয়ান্টেড হয়।
.
রিয়াদের মধ্যে মার্কিন ক্রসেডারদের উপর আক্রমণ পরিচালনাকারীদেরকে আব্দুল্লাহ তাকফীর করেছে।
সুতরাং আমার মত যেন আবদুল্লাহ ওয়ান্টেড হিসাবে গণ্য হয়।
.
ওরে সন্ত্রাসীর দল!!!
আমাকে ঐ সন্ত্রাস বোঝাও! যেটার কারণে আমাকে তোমরা ওয়ান্টেড আখ্যায়িত করছ।?!!!
.
আমি যা করেছি তা কি অ্যামেরিকা করেনি?!!
.
বরং এর চেয়ে অনেক অনেক বেশী করেছে।
তাহলে তারা কেন সন্ত্রাসী (জঙ্গি) হচ্ছে না।?!!!
.
কেন অ্যামেরিকার প্রতি সহানভুতি প্রকাশ অপরাধ বলে বিবেচিত হচ্ছে না?!
যেভাবে আমার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ অপরাধ বলে গণ্য হচ্ছে?!!!
.
আমাকে কি তোমরা নাসারা (খ্রিস্টান) হতে বলছ?
কুফরী করতে বলছ?
তাহলে অ্যামেরিকার মত আমি এই সন্ত্রাসের অপরাধ থেকে মুক্তি পাব?!!
.
এটাই কি সৌদি সরকার আমার থেকে আশা করে?!
.
ইহুদী-নাসারা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্ম গ্রহণ কর।
.
সৌদি সরকার সন্ত্রাস করেছে।
সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সহানুভূতি দেখিয়েছে।
সন্ত্রাসীদেরকে সাহায্য করেছে।
তাদেরকে মাল দিয়ে শক্তিশালী করেছে।
মার্কিন সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে সব করেছে। 
তথাপি কেন তারা জঙ্গি-সন্ত্রাসী হবে না?!!
এই কারণে কি, তারা হচ্ছে একটা হুকমত বা সরকার?!!
.
তাহলে আমার উপরও তো আবশ্যক হচ্ছে,
যে কোন ভাবে ক্ষমতা দখল করা।
যাতে আমিও এই সন্ত্রাসের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাই।
.
.
#পাঁচ
আচ্ছা ঠিক আছে ...............।।
যা আলোচনা হল সব বাদ।!!!
.
যদিও আমি কোন অভিযোগ ব্যতিরেকেই অভিযুক্ত,
যে সৌদি সরকার আমাকে ওয়ান্টেড আখ্যায়িত করেছে,
যদিও সে আমার চেয়ে অনেক বেশী অপরাধে অপরাধী
তথাপি আমি নিজেকে সমর্পণ করব ............।!
.
তবে আমি কিছু শর্ত দেব ----------।
আমি এমন শর্ত দেব না, যার হক শরীয়ত আমাকে দেয়নি।
.
আমর প্রথম শর্ত হবে,
আমার ফায়সালা করতে হবে শরয়ী মাহকামাতে,
ইনসাফের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত প্রকাশ্য মাহকামা।
.
আমার আর একটি শর্ত হচ্ছে,
আমাকে নির্যাতন করা যাবে না।
.
আমার শেষ শর্ত হচ্ছে,
আমার যে সমস্ত আপনজনকে সরকার জিম্মি হিসাবে আটক করেছে,
তাদেরকে মুক্তি দিতে হবে।
.
হ্যাঁ এগুলোই আমার শর্ত।
.
কিন্তু আমার আশংকা হচ্ছে,
সৌদি সরকার আমাকে জেলে ভরবে,
আমার সকল শর্ত অস্বীকার করবে।
তাহলে আমার পক্ষে কীভাবে সম্ভব হবে,
সরকারকে এই শর্ত পুরনে বাধ্য করতে
অথচ আমি জিন্দানখানায় শিকলাবদ্ধ।
.
একটা সমাধান পেয়েছি --------।
আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এর সাথে সম্পর্ক আছে এমন কোন শায়খের কাছে যাব।
তিনি হতে পারেন, সাফার আল- হাওালী।
আমি তার কাছে আমার শর্তগুলো পেশ করব,
তাকে এ ব্যাপারে সরকারের সাথে আলোচনা করতে বলব।
.
তিনি যে এটা করতে সক্ষম হবেন, আমি এই নিশ্চয়তা পাব কীভাবে?
হ্যাঁ এটা করা যেতে পারে যে,
সরকার শর্ত মানলে তাকে এ ব্যাপারে মিডিয়ার মধ্যে প্রকাশ্য ঘোষণা দিতে হবে।
.
কিন্তু..................!
এই একই কাজ কি ফাকআসী করেননি?
ফাকআসীর শর্তগুলো হেওালি কি সৌদি পত্রিকার সমূহের মধ্যে প্রকাশ করেননি?
তথাপি ফাকআসী তার হক সমূহের নিশ্চয়তা পেয়েছে কি?!!
না পায়নি!!!
.
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রি নায়েফ দৃশ্যপটে এলো,
এসে হেওালিকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করল।
ফাকআসীর শর্ত সমূহ অস্বীকার করল। 
.
নায়েফের দাবি অনুযায়ী হেওালি মিথ্যা বলেছিল কি?
না এটাই স্বাভাবিক যে নায়েফ হেওালিকে মিথ্যার অপবাদ দিয়েছে?
তাহলে দুর্বল কারাবন্দী ফাকআসীর ক্ষেত্রে কি অবস্থা হয়েছে?!!
আর কে আছে এমন, যে ফাকআসীর শর্তের নিশ্চয়তা দেবে, তার জামিন হবে?
.
আমি আত্মসমর্পণের চিন্তা থেকে সরে এসেছি,
কারণ আমি যে সতর্কতাই নিতে চাই, ফাকআসী তাই গ্রহণ করেছিল।
কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
.
তাই মৃত্যুই আমার কাছে উত্তম ও অধিক প্রিয় ............।
.
.
#ছয়
যদিও আমি আত্মসমর্পণের চিন্তা বাদ দিয়েছি,
কিন্তু সন্ত্রাসের অভিযোগ থেকে মুক্ত হবার দিঢ় সংকল্প থেকে পিছে সরে আসতে পারিনি।
.
সন্ত্রাসের সকল উপকরণ দ্বারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে অ্যামেরিকা।
তাদেরকে সন্ত্রাসের সকল সংজ্ঞা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায়। 
অথচ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো অ্যামেরিকার ভালবাসা অর্জনে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত,
আমাকে অপরাধী সাব্যস্তকারী সৌদি সরকার এ ক্ষেত্রে আরও অগ্রগামী।
.
অ্যামেরিকার সাথে বন্ধুত্ব, সম্পর্ক ও ভালবাসা তাদের জন্য গর্বের ব্যাপার কেন?
অথচ আমার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ অপরাধ!!!
.
যে রাষ্ট্র মার্কিন সন্ত্রসিদেরকে সাহায্য করে,
তার সাথে সম্পর্ক রাখা জনগণের উপর ওয়াজিব কেন?!!
আর শরয়ী জঙ্গিদের (সন্ত্রাসীদের) ব্যাপারে সামান্য সহানুভূতি প্রকাশ
জনগণের জন্য হারাম কেন?!! 
.
সন্ত্রাসী সৌদি সরকারকে সাহায্য করা,
কেন জনগণের উপর আবশ্যক?
আর আমাদেরকে সাহায্য করা হারাম?!!
.
আমি কারণ খুঁজে পেয়েছি ......
.
হ্যাঁ... হ্যাঁ...  আমি এখন কারণ বুঝতে পেরেছি .........।
.
আমি উসামা রহঃ এর আওয়াজ শুনতে পেলাম ----------- 
  
إنَّ الناس يميلون مع القوي ..

إرهابُنا جريمة .. وإرهاب أمريكا أمر مشروع ..

أبرياؤهم أبرياء .. وأبرياؤنا ليسوا أبرياء ..

মানুষেরা ঝোঁকে শক্তিশালীর দিকে ...।।
আমাদের সন্ত্রাস হচ্ছে অপরাধ
আর অ্যামেরিকার সন্ত্রাস হচ্ছে বৈধ।!!
তাদের নিরাপরাধ জনসাধারণ নিরাপরাধ,
আর আমাদের নিরাপরাধ জনসাধারণ অপরাধী।!!
.
আল্লাহ্ তায়ালা আপনার প্রতি রহম করুন, হে উসামা!
এখন বুঝেছি কবিতার পংতি।
এখন চিনেছি ঘোড়ার লাগাম।
এখন পেয়েছি সমস্যার সমাধান!
.
হ্যাঁ এখন বুঝেছি......।।
আমাকে শক্তিশালী হতে হবে।
.
যখন তুমি শক্তিশালী হবে,
তখন তুমি যাই কর সন্ত্রাসী হবে না।
ঠিক আছে,
কিন্তু আমি যে দুর্বল এটা তাদেরকে কে বলল?
হয়ত আমি শক্তিশালী কিন্তু সেটা তারা জানে না!!?
.
আচ্ছা!!
তাদেরকে আমার শক্তি দেখাতে হবে,
যেমন তারা অ্যামেরিকার শক্তি দেখেছে।
.
আর তখনি আমার সাথে ক্ষমতাশীলরা
উষ্ম বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করবে।
তখনি সৌদি শাসক নড়েচড়ে বসবে,
আমার সাথে চুক্তি করতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
.
এই শাসকেই তো শ্যরন এর সাথে চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করে ছিল।
ইয়াহুদী সন্ত্রাসী শ্যরন কি একজন মুসলিম জঙ্গির (সন্ত্রাসীর) চেয়ে ভাল?!!!
.
সন্ত্রাসের (জঙ্গিবাদের) অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার এক মাত্র উপায় হচ্ছে ---
তোমাকে শক্তিশালী হতে হবে।
.
ঠিক আছে ......।
কিছু সময় অপেক্ষা কর ............।
অচিরেই ইনশাআল্লাহ্ তোমরা আমরা শক্তি দেখতে পাবে ......।।
এটাই ইসলামী সন্ত্রাসীর বার্তা...।।
.
হে আল্লাহ্!
আপনি মুজাহিদিন সন্ত্রাসীদের ত্রাসকে আপনার পথে কবুল করুন।
.
হে আল্লাহ্! আপনি নিহত সন্ত্রাসীদের রূহগুলোকে আপনার পথে গ্রহণ করুন।

 
back to top