মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০১৬

সালাতের মধ্যে যা করা বৈধ

কোন মন্তব্য নেই:

★ নামাযের মধ্যে যা করা বৈধ ★
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। শান্তি অবতীর্ণ হউক রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের উপর।

নামায পড়তে পড়তে এমন কিছু কাজ আছে যা করা বৈধ, অথচ সাধারণত: তা অবৈধ মনে হয় বা বড় ভুল ভাবা হয়। এ রকম কিছু কাজ নিম্নরুপ :-

১। কাঁদা;

নামায পড়তে পড়তে চোখ দিয়ে অশ্র ঝরা অথবা ডুকরে বা গুমরে কেঁদে ওঠা দূষণীয় নয়। আল্লাহর ভয়ে এমন কান্না কাঁদা তাঁর নেক ও বিনম্র বান্দার বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ বলেন, “--- তাদের নিকট করুণাময় (আল্লাহর) আয়াত পাঠ করা হলে তারা লুটিয়ে পড়ে সিজদা ও ক্রন্দন করত।” (কুরআন মাজীদ ১৯/৫৮)

আব্দুল্লাহ বিন শিখখীর বলেন, ‘একদা আমি নবী (সাঃ) এর নিকটে এলাম। তখন তিনি নামায পড়ছিলেন। আর তাঁর ভিতর থেকে চুলোর উপর হাঁড়িতে পানি ফোটার মত কান্নার শব্দ বের হ্‌চ্ছিল।’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘যাঁতার শব্দের মত কান্নার শব্দ বের হ্‌চ্ছিল।’ (আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান, মিশকাত ১০০০ নং)

আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর অসুখ যখন খুব বেড়ে গিয়েছিল, তখন তাঁকে নামাযের সময় হয়েছে বললে তিনি বললেন, “তোমরা আবূ বাকারকে নামায পড়াতে বল।” আয়েশা رضي الله عنها বললেন, ‘আবূ বাকার তো নরম-দেলের মানুষ। উনি যখন কুরআন পড়েন, তখন কান্না রুখতে পারেন না।’ মহানবী (সাঃ) বললেন, “তোমরা ওকে বল, ওই নামায পড়াবে।” আয়েশা رضي الله عنها পুনরায় ঐ একই কথা বললে মহানবী (সাঃ) ও পুন: বললেন, “ওকে বল, ওই নামায পড়াবে ---।” (বুখারী, মিশকাত ১১৪০ নং)

এ কান্না দীর্ঘ হলেও তাতে নামায নষ্ট হয় না। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/২৬১)

২। হাঁচি ও তার জন্য দুআ;

নামাযের মধ্যে হাঁচি এলে হাঁচির পর নির্দিষ্ট দুআ পাঠ বৈধ। আর সেই দুআর বড় ফযীলতও রয়েছে। কওমার ৫নং দুআ দেখুন।

৩। হাই তোলা;

নামাযে যদিও হাই তোলা বৈধ, তবুও যেহেতু হাই আলস্য জনিত বা নিদ্রা জনিত কারণে মুখ ব্যাদানোর নাম, তাই তা যথাসম্ভব দমন করা কর্তব্য। কারণ, নামাযে নামাযী আলস্য প্রদর্শন করলে শয়তান খোশ হয়।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “তোমাদের মধ্যে কারো যখন নামাযে হাই আসে, তখন তার উচিৎ, তা যথাসাধ্য দমন করা এবং ‘হা-হা’ না বলা। কেন না, হাই শয়তানের তরফ থেকে আসে। আর সে তা দেখে হাসে।” (বুখারী, মিশকাত ৯৮৬ নং)

“তোমাদের কেউ হাই তুললে সে যেন তার মুখে হাত রেখে নেয়। কারণ, শয়তান হাই-এর সাথে (মুখে) প্রবেশ করে যায়!” (আহমাদ, মুসনাদ, বুখারী, মুসলিম,  আবূদাঊদ, সুনান, জামে ৪২৬ নং)

৪। থুথু ফেলা;

মহানবী (সাঃ) বলেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ নামাযে দাঁড়ালে সে যেন তার সম্মুখ দিকে থুথু না ফেলে। কারণ, সে যতক্ষণ নামাযের জায়গায় থাকে ততক্ষণ আল্লাহর সাথে মুনাজাত (নিরালায় আলাপ) করে। আর তার ডান দিকেও যেন থুথু না ফেলে। কারণ, তার ডানে থাকে (বামদিকের চেয়ে অপেক্ষাকৃত সম্মানিত নেকী-লেখক) ফিরিশ্‌তা। বরং সে যেন (মসজিদের মেঝে কাঁচা মাটির হলে অথবা মাঠে-ময়দানে নামায পড়লে) তার বাম দিকে অথবা (সেদিকে কেউ থাকলে) তার (বাম) পায়ের নিচে ফেলে। যা পরে সে দাফন করে দেবে।” (বুখারী, মুসলিম,  ৭১০, ৭১১নং)

একদা তিনি মসজিদের কিবলার দিকে দেওয়ালে কফ লেগে থাকতে দেখে মর্মাহত হলেন এবং তা তাঁর চেহারাতেও ফুটে উঠল। তিনি উঠলেন এবং নিজ হাত দ্বারা তা পরিষ্কার করলেন। অতঃপর বললেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে নিরালায় আলাপ করে। তার প্রতিপালক থাকেন তার ও তার কিবলার মাঝে। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন তার সামনের দিকে অবশ্যই থুথু না ফেলে। বরং সে যেন তার বাম দিকে অথবা পায়ের নিচে থুথু ফেলে।” অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরে তার উপর থুথু ফেললেন এবং পাশাপাশি কাপড় ধরে কচলে দিলেন, আর বললেন, “অথবা সে যেন এইরুপ করে।” (বুখারী, মিশকাত ৭৪৬নং)

নাক ঝাড়লেও অনুরুপ করা উচিৎ। অবশ্য পৃথক রুমাল বা টিসু-পেপার ব্যবহার উত্তম।

৫। অনিষ্টকর জীব-জন্তু মারা:-

নামায পড়তে পড়তে সাপ, বিছা, বোলতা প্রভৃতি বিষধর ও অনিষ্টকর জন্তু মারা বৈধ। আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “নামাযে দুই কালো জন্তু; সাপ ও বিছা মেরে ফেলো।” (আহমাদ, মুসনাদ ২/২৩৩, আবূদাঊদ, সুনান ৯২১, তিরমিযী, সুনান ৩৯০, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ১২৪৫, ত্বায়ালিসী ২৫৩৮, আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফ ১৭৫৪, দারেমী, সুনান, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ৮৯৬,  ইবনে হিব্বান, সহীহ ২৩৫১,হাকেম, মুস্তাদরাক ১/২৫৬, বায়হাকী ২/২৬৬, প্রমুখ)

অনুরুপ উকুন বা উকুন-জাতীয় পোকাও নামাযে মারা বৈধ। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৩৫০)

৬। চুলকানো:-

দেহে অস্বস্তিকর চুলকানি শুরু হলে নামায পড়া অবস্থাতেও চুলকানো বৈধ। কারণ, চুলকানিতে নামাযীর একাগ্রতা নষ্ট হয়। আর চুলকে দিলে অস্বস্তিবোধ দূর হয়ে যায়। সুতরাং এখানে ধৈর্য ধরা উত্তম নয়। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৩৫০-৩৫১)

৭। প্রয়োজনবোধে চলা:-

শত্রুর ভয় হলে (জিহাদের ময়দানে) চলা অবস্থায় নামায বৈধ। মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা নামায সমূহের প্রতি -বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসরের) নামাযের প্রতি- যত্নবান হও এবং আল্লাহর সম্মুখে বিনীতভাবে দাঁড়াও। কিন্তু যদি (শত্রুর) ভয় কর, তাহলে চলা অথবা সওয়ার অবস্থায় (নামায পড়)।” (কুরআন মাজীদ ২/২৩৮-২৩৯)

একদা মহানবী (সাঃ) স্বগৃহে দরজার খিল বন্ধ করে নফল নামায পড়ছিলেন। মা আয়েশা رضي الله عنها  এসে দরজা খুলতে বললে তিনি চলে গিয়ে তাঁর জন্য দরজা খুলে দিলেন। অতঃপর পুনরায় নিজের মুসাল্লায় ফিরে গেলেন। অবশ্য দরজা ছিল কিবলার দিকেই। (আহমাদ, মুসনাদ ৬/২৩৪, আবূদাঊদ, সুনান ৯২২, তিরমিযী, সুনান ৬০১, নাসাঈ, সুনান, ইবনে হিব্বান, সহীহ, আবূ য়্যা’লা ৪৪০৬, দারাক্বুত্বনী, সুনান, বায়হাকী ২/২৬৫, মিশকাত ১০০৫ নং)

একদা তিনি সূর্যগ্রহণের নামাযে বেহেশ্‌ত দেখে অগ্রসর এবং দোযখ দেখে পশ্চাদপদ হয়েছিলেন। (বুখারী ১০৫২, মুসলিম, সহীহ ৫২৫ নং)

সাহাবাগণকে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে তিনি মিম্বরে চড়ে নামায পড়েছেন। মিম্বরের উপর রুকূ করে পিছ-পায়ে নেমে নিচে সিজদাহ করেছেন। (বুখারী ৯১৭, মুসলিম, সহীহ ৫৪৪ নং) একদা আবূ বাকার (সাঃ) এর ইমামতি কালে মহানবী (সাঃ) এসে উপস্থিত হলে তিনি (আবূ বাকার) পিছ-পায়ে সরে এসেছিলেন। (বুখারী ৬৮০, ১২০৫ নং) আবূ বারযাহ্‌ আসলামী (রাঃ) ফরয নামায পড়তে পড়তে তাঁর ঘোড়া পালাতে শুরু করলে তিনি তার পিছনে পিছনে গিয়েছিলেন। (বুখারী ১২১১ নং, আহমাদ, মুসনাদ, বায়হাকী)

৮। ছেলে তোলা:-

নবী মুবাশ্‌শির (সাঃ) ইমামতি করতেন, আর আবুল আসের শিশু কন্যা তাঁর কাঁধে থাকত। অতঃপর যখন তিনি রুকূ করতেন, তখন তাকে নিচে নামিয়ে দিতেন। পুনরায় যখন সিজদাহ থেকে উঠতেন, তখন আবার কাঁধে তুলে নিতেন। (বুখারী, মুসলিম, সহীহ মিশকাত ৯৮৪ নং) এ ব্যাপারে ‘দীর্ঘ সিজদাহ’ শিরোনামে শাদ্দাদ (রাঃ) এর হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে।

৯। শিশুদের ঝগড়া থামানো:-

একদা বানী মুত্তালিবের দু’টি ছোট  মেয়ে মারামারি করতে করতে মহানবী (সাঃ) এর সামনে এসে তাঁর হাঁটু ধরে ফেলল। তিনি নামায পড়ছিলেন। সেই অবস্থায় তিনি উভয়কে দু’দিকে সরিয়ে দিলেন। (আবূদাঊদ, সুনান ৭১৬, ৭১৭, সহিহ,নাসাঈ, সুনান ৭২৭ নং)

১০। খোঁচা দিয়ে সরে যেতে ইঙ্গিত করা:-

মা আয়েশা رضي الله عنها  মহানবী (সাঃ) এর নামায পড়া কালে তাঁর সামনে কিবলার দিকে পা মেলে শুয়ে থাকতেন। তিনি (অন্ধকারে) যখন সিজদাহ করতেন, তখনহাতের খোঁচা দিয়ে তাঁকে (স্ত্রীকে) পা সরিয়ে নিতে ইঙ্গিত করতেন। (বুখারী ৩৮২, ১২০৯ নং)

১১। ইশারায় সালামের জওয়াব দেওয়া:-

নামাযী নামাযে রত থাকলেও তাকে সালাম দেওয়া বিধেয় এবং নামাযীর নামায পড়া অবস্থাতেই সালামের জওয়াব দেওয়া কর্তব্য। তবে মুখে নয়, হাত বা আঙ্গুলের ইশারায়। (মুসলিম, সহীহ ৫৩৮, আদা, মিশকাত ৯৮৯ নং)

ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, আমি বিলাল (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী (সাঃ) এর নামাযে রত থাকা অবস্থায় ওঁরা (সাহাবীগণ) যখন সালাম দিতেন, তখন তিনি কিভাবে উত্তর দিতেন? বিলাল (রাঃ) বললেন, ‘হাত দ্বারা ইশারা করে।’ (তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান, শাফেয়ী, মিশকাত ৯৯১নং)

একদা তিনি উটের উপর নামায পড়ছিলেন। জাবের (রাঃ) তাঁকে সালাম দিলে তিনি হাতের ইশারায় উত্তর দিয়েছিলেন। (মুসলিম, সহীহ ৫৪০নং, আহমাদ, মুসনাদ)

একদা সুহাইব (রাঃ) তাঁকে নামায পড়া অবস্থায় সালাম দিলে তিনি আঙ্গুলের ইশারায় জওয়াব দিয়েছিলেন। (তিরমিযী, সুনান ৩৬৭নং, আহমাদ, মুসনাদ)

একদা আবূ হুরাইরা (রাঃ) তাঁকে নামায পড়া অবস্থায় সালাম দিলে তিনি ইশারায় উত্তর দিয়েছিলেন। (ত্বাবারানী, মু’জাম, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ৬/৯৯৮)

একদা ইবনে উমার (রাঃ) এক ব্যক্তির নিকট গেলেন, তখন সে নামায পড়ছিল। তিনি তাকে সালাম দিলে সে মুখে উত্তর দিল। পরে ইবনে উমার (সাঃ) তাকে বললেন, ‘নামায পড়া অবস্থায় তোমাদের মধ্যে কাউকে সালাম দেওয়া হলে সে যেন মুখে উত্তর না দেয়। বরং সে যেন হাত দ্বারা ইশারা করে উত্তর দেয়।’ (মালেক, মুঅত্তা, মিশকাত ১০১৩ নং)

সালামের জওয়াব ছাড়া নামাযে প্রয়োজনে অন্য জরুরী কথাও ইঙ্গিত ও ইশারার মাধ্যমে বুঝানো যায়। একদা মহানবী (সাঃ) নামায পড়ছিলেন। তিনি সিজদাহ করলে হাসান (রাঃ) ও হুসাইন (রাঃ) তাঁর পিঠে চড়ে বসলে সাহাবীগণ বারণ করলেন। কিন্তু তিনি ইশারা করে বললেন, “ওদেরকে নিজের অবস্থায় ছেড়ে দাও।” অতঃপর নামায শেষ করলে তিনি উভয়কে কোলে রেখে বললেন, “যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে, সে যেন এই দু’জনকেও ভালোবাসে।” (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ৭৭৮ নং, বায়হাকী ২/২৬৩)

১২। নামাযে কাউকে কোন জরুরী ব্যাপারে সতর্কীকরণ

নামাযী নামাযে রত আছে এ কথা জানাতে অথবা ইমাম নামাযে কিছু ভুল করলে তার উপর তাঁকে সতর্ক করতে পুরুষদের জন্য ‘সুবহা-নাল্লাহ্‌’ বলা এবং মহিলাদের জন্য হাততালি দেওয়া বিধেয়।

প্রিয় রসূল (সাঃ) বলেন, “তোমাদের নামাযের মধ্যে (অস্বাভাবিক) কিছু ঘটে গেলে পুরুষেরা যেন ‘তাসবীহ’ পড়ে এবং মহিলারা যেন হাততালি দেয়।” (বুখারী ৬৮৪, মুসলিম,  আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান, মিশকাত ৯৮৮ নং)

নারী এমন এক সৃষ্টি, যার রুপ, সৌরভ ও শব্দে পুরুষের মন প্রকৃতিগতভাবে চকিত হয়ে ওঠে। ফলে, যাতে নামাযের সময় তাদের মোহ্‌নীয় কণ্ঠস্বরে পুরুষরা সংকটে না পড়ে তার জন্য শরীয়তের এই বিধান। পক্ষান্তরে শয়তান মানুষের শিরায় শিরায় ফিরে বেড়ায়। (বুখারী ৩২৮১, মুসলিম, সহীহ ২১৭৫ নং) এবং পুরুষদের জন্য নারী হল সবচেয়ে বড় ফিতনার জিনিস। (বুখারী ৫০৯৬, মুসলিম, সহীহ ২৭৪০ নং)

এখান থেকে বুঝা যায় যে, মহিলাদের পৃথক জামাআত হলে এবং সেখানে কোন বেগানা পুরুষ না থাকলে হাততালি না দিয়ে তাসবীহ পড়ে মহিলারা (মহিলা) ইমামকে সতর্ক করতে পারে। কারণ, তাসবীহ হল নামাযের এক অংশ। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৩৬২-৩৬৩)

মুক্তাদীদের মধ্যেও কেউ কিছু ভুল করলে, (যেমন সিজদায় বা বৈঠকে ঘুমিয়ে পড়লে) তাকেও সতর্ক করার জন্য তাসবীহ ব্যবহার চলবে। (ঐ ৩/৩৬৭-৩৬৮)

১৩। ইমামের ক্বিরাআত সংশোধন:-

নামাযে কুরআন পাঠ করতে করতে যদি ইমাম সাহেব কোন আয়াত ভুলে যান, থেমে যান অথবা ভুল পড়েন, তাহলে ‘লুকমাহ্‌’ দিয়ে তা মনে পড়ানো, ধরিয়ে দেওয়া বা সংশোধন করা বিধেয়।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “আমি তোমাদেরই মত একজন মানুষ। আমিও ভুলে যাই, যেমন তোমরা ভুলে যাও। সুতরাং আমি ভুলে গেলে তোমরা আমাকে মনে পড়িয়ে দিও।” (বুখারী ৪০১, মুসলিম, সহীহ ৫৭২নং)

একদা তিনি নামাযে কুরআন পড়তে পড়তে ভুলে কিছু অংশ ছেড়ে দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! অমুক অমুক আয়াত আপনি ছেড়ে দিয়েছেন, (পড়েন নি)। তিনি বললেন, “তুমি আমাকে মনে পড়িয়ে দিলে না কেন?” (আবূদাঊদ, সুনান ৯০৭ নং, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান)

একদা নামাযে ক্বিরাআত পড়তে পড়তে তাঁর কিছু গোলমাল হল। সালাম ফেরার পর উবাই (রাঃ) এর উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, “তুমি আমাদের সাথে নামায পড়লে?” উবাই (রাঃ) বললেন, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, “তবে ভুল ধরিয়ে দিলে না কেন?” (আবূদাঊদ, সুনান ৯০৭, ইহি, ত্বাবারানীরানী, মু’জাম, বায়হাকী ৩/২১২)

উল্লেখ্য যে, সূরা ফাতিহা নামাযের একটি রুক্‌ন অথবা ফরয। সুতরাং তা পড়তে ইমাম কোন প্রকারের ভুল করলে (যাতে অর্থ বদলে যায় তা) মুক্তাদীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া ওয়াজেব। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৩৪৬)

১৪। প্রয়োজনে কাপড় বা পাগড়ীর উপর সিজদাহ করা:-

অতি গ্রীষ্ম বা শীতের সময় সিজদার স্থানে কপাল রাখা কষ্টকর হলে চাদর, আস্তীন বা পাগড়ীর বাড়তি অংশ ঐ স্থানে রেখে সিজদাহ করা বৈধ।

মহানবী (সাঃ) এর যামানায় সাহাবাগণ এরুপ করতেন। (বুখারী ৩৮৫, ৫৪২ নং, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, দারেমী, সুনান, আহমাদ, মুসনাদ ৩/১০০)

জাবের (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর সাথে যোহরের নামায পড়তাম। আমার হাতের মুঠেfয় কিছু কাঁকর রেখে ঠান্ডা করে নিতাম এবং প্রখর তাপ থেকে বাঁচার জন্য তা কপালের স্থানে (সিজদার জায়গায়) রেখে নিতাম। (আবূদাঊদ, সুনান ৩৯৯, নাসাঈ, সুনান, মিশকাত ১০১১ নং)

১৫। জুতা পরে নামায-

জুতা পাক-সাফ হলেও অনেকে বুযুর্গদের সাথে সাক্ষাতের সময় তা পায়ে রাখে না। যা শ্রদ্ধার অতিরঞ্জন এবং বিদআত। বলাই বাহুল্য, এমন লোকদের নিকট জুতা পায়ে নামায পড়া তাদের কল্পনার বাইরে।

কিন্তু হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) জুতা পায়ে নামায পড়তেন। (বুখারী ৩৮৬, মুসলিম, সহীহ)

আব্দুল্লাহ বিন আম্‌র বলেন, আমি নবী (সাঃ) কে খালি পায়ে ও জুতা পায়ে উভয় অবস্থাতেই নামায পড়তে দেখেছি। (আবূদাঊদ, সুনান ৬৫৩ নং, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান)

রসূল (সাঃ) বলেন, “যখন তোমাদের মধ্যে কেউ নামায পড়বে, তখন সে যেন তার জুতা পরে নেয় অথবা খুলে তার দু’ পায়ের মাঝে রাখে। আর সে যেন তার জুতা দ্বারা অপরকে কষ্ট না দেয়।” (আবূদাঊদ, সুনান ৬৫৫ নং, বাযযার,হাকেম, মুস্তাদরাক)

তিনি আরো বলেন, “তোমরা ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধাচরণ কর (এবং জুতা পরে নামায পড়)। কারণ, ওরা ওদের জুতো ও চামড়ার মোজায় নামায পড়ে না। (আবূদাঊদ, সুনান ৬৫২ নং, বাযযার,হাকেম, মুস্তাদরাক)

জুতা খুলে নামায পড়লে এবং মসজিদে জুতা রাখার কোন নির্দিষ্ট জায়গা না থাকলে যদি বাম পাশে কেউনা থাকে তাহলে বাম পাশে, নচেৎ দুই পায়ের মাঝে রাখতে হবে। ডান দিকে রাখা যাবে না। (আবূদাঊদ, সুনান ৬৫৪, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ,হাকেম, মুস্তাদরাক)

অবশ্য জুতায় ময়লা বা নাপাকী লেগে থাকলে তা পরে নামায হয় না। নাপাকী বা ময়লা মাটিতে বা ঘাসে রগড়ে মুছে দূর করে নিয়ে তাতে নামায পড়া যায়। নামাযের মাঝে জুতায় ময়লা লেগে আছে দেখলে বা জানতে পারলে তা সাথে সাথে খুলে ফেলা জরুরী। (আবূদাঊদ, সুনান ৬৫০, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ,হাকেম, মুস্তাদরাক, ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ২৮৪ নং)

খেয়াল রাখার বিষয় যে, মসজিদ পাকা ও গালিচা-বিছানো হলে তার ভিতরে জুতা পরে গিয়ে নোংরা করা বৈধ নয়। মসজিদের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার খেয়াল অবশ্যই জরুরী।

১৬। মনে অন্য চিন্তা এসে পড়া:-

অনিচ্ছা সত্ত্বেও নামাযে অন্য চিন্তা এসে পড়লে নামায বাতিল হয়ে যায় না। অবশ্য অন্য চিন্তা এনে দেওয়ার কাজ শয়তানই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে করে থাকে। আর এ কথা আমরা ‘নামায কিভাবে কায়েম হবে’ শিরোনামে পড়েছি এবং শয়তান ও তার কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়ও সেখানে জেনেছি।

হযরত উমার (রাঃ) স্বীকার করেন যে, তিনি কোন কোন নামাযে সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত ও প্রেরণ করার কথা চিন্তা করতেন। (বুখারী বিনা সনদে ২৩৯পৃ:)

একদা আসরের নামাযে মহানবী (সাঃ) এর মনে পড়ল যে, তাঁর ঘরে কিছু সোনা বা চাঁদির টুকরা থেকে গেছে। তাই সালাম ফিরেই সত্বর তিনি কোন পত্নীর গৃহে প্রবেশ করে রাত্রি আসার পূর্বেই দান করতে আদেশ করে এলেন! (বুখারী ৮৫১, ১২২১ নং)

সাহাবাগণের মধ্যে এমন অনেক সাহাবা ছিলেন, যাঁরা আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর সাথে নামায পড়তেন। কিন্তু গত রাত্রে এশার নামাযে তিনি (সাঃ) কোন্‌ সূরা পড়েছেন তা খেয়াল রাখতে পারতেন না। (বুখারী ১২২৩ নং)

অবশ্য প্রত্যেকের উচিৎ, যথাসম্ভব অন্য চিন্তা এবং অন্যমনস্কতা দূর করা। নচেৎ অন্য খেয়াল বা চিন্তা যত বেশী হবে, নামাযের সওয়াব তত কম হয়ে যাবে।

১৭। সিজদার জায়গা সাফ করা:-

সিজদার জায়গা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে নামাযের মাঝে (সিজদার সময়) ফুঁক দেওয়া বৈধ। আল্লাহর নবী (সাঃ) সূর্য-গ্রহণের নামাযের সিজদায় ফুঁক দিয়েছেন। (আবূদাঊদ, সুনান ১১৯৪, নাসাঈ, সুনান, আহমাদ, মুসনাদ ২/১৮৮, বুখারী বিনা সনদে ২৩৮পৃ:)

পক্ষান্তরে ফুঁক দেওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে হাদীস সহীহ নয়। (তামামুল মিন্নাহ্‌, আলবানী ৩১৩পৃ:) অনুরুপ কাঁকর সরানো নিষিদ্ধ হওয়ার হাদীসও যয়ীফ। (ঐ) পরন্তু সহীহ হাদীসে একবার মাত্র সরানোর অনুমতি আছে। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৯৮০ নং) তবে না সরানো ১০০টি উৎকৃষ্ট উটনী অপেক্ষা উত্তম। (ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ, সহিহ তারগিব ৫৫৫ নং)

১৮। নামাযীর লেবাসের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক কাপড়ে এবং খালি মাথায় নামায পড়া বৈধ।

১৯। মুসহাফ হাতে দেখে দেখে কুরআন পাঠ:-

তারাবীহ্‌ প্রভৃতি লম্বা নামাযে (লম্বা ক্বিরাআতের) হাফেয ইমাম না থাকলে ‘কুল-খানী’ করে ঠকাঠক কয়েক রাকআত পড়ে নেওয়ার চেয়ে মুসহাফ (কুরআন মাজীদ) দেখে দেখে পাঠ করে দীর্ঘ ক্বিরাআত করা উত্তম। (অবশ্য কুরআন খতমের উদ্দেশ্যে নয়।) অনুরুপ (জামাআতে অন্য হাফেয মুক্তাদী না থাকলে) হাফেয ইমামের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোন মুক্তাদীর কুরআন দেখে যাওয়া বৈধ। এ সব কিছু প্রয়োজনে বৈধ; ফলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না।

মা আয়েশা رضي الله عنها এর আযাদকৃত গোলাম যাকওয়ান রমযানে (তারাবীতে) দেখে দেখে কুরআন পাঠ করে তাঁর ইমামতি করতেন। (মালেক, মুঅত্তা, ইবনে আবী শাইবা ৭২১৫, ৭২১৬, ৭২১৭ নং)

ইমাম হাসান, মুহাম্মদ, আত্বা প্রমুখ সলফগণ এরুপ (প্রয়োজনে) বৈধ মনে করতেন। (ইবনে আবী শাইবা ৭২১৪, ৭২১৮, ৭২১৯, ৭২২০, ৭২২১ নং)

বর্তমান বিশ্ব তথা সঊদী আরবের উলামা ও মুফতী কমিটির সিদ্ধান্ত মতেও প্রয়োজনে মুসহাফ দেখে তারাবীহ্‌ পড়ানো বৈধ। (ফিকহুস সুন্নাহ্‌ ১/২৩৪, মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ১৯/১৫৪, ২১/৫৬) সঊদিয়ার প্রায় অধিকাংশ মসজিদে আমলও তাই।

হযরত আনাস (রাঃ) নামাযে ক্বিরাআত পড়তেন আর তাঁর গোলাম তাঁর পশ্চাতে মুসহাফ ধরে দাঁড়াতেন। তিনি কিছু ভুলে গেলে গোলাম ভুল ধরিয়ে দিতেন। (ইবনে আবী শাইবা ৭২২২ নং)

নামাযের ভিতরে কুরআন খতম করলে খতমের পরে দুআ করার কোন দলীল নেই। তাই কুরআন খতমের দুআ নামাযের ভিতরে না করাই উচিৎ। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/৫৭-৫৮) অবশ্য নামাযের বাইরে হযরত আনাস (রাঃ) কুরআন খতম করলে তাঁর পরিবার-পরিজনকে সমবেত করে দুআ করতেন। (ইবনুল মুবারাক, যুহ্‌দ ৮০৯ পৃ:, ইবনে আবী শাইবা ১০৮৭ নং, দারেমী, সুনান, ত্বাবারানীরানী, মু’জাম, মাজমাউয যাওয়াইদ,হাইষামী ৭/১৭২)

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, কুরআনের খতমের কোন নির্দিষ্ট দুআও নেই। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২০/১৬৫,  ১৮৬) অতএব কুরআন মাজীদের শেষ পৃষ্ঠার পর ‘দুআ-এ খতমিল কুরআন’ নামে যে দুআ প্রায় মুসহাফে ছাপা থাকে তা মনগড়া।

আল্লাহ্‌ আমাদের সত্য বুঝে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

গনতন্ত্র কি

কোন মন্তব্য নেই:

গনতন্ত্র ইসলামে হারাম ও কুফরী ( কোরআন ও হাদীসের আলোকে )আমাদের সংবিধানেই বলা আছে” আল্লাহর উপর পূর্ন আস্হা ও বিস্বাস “ ।
.
তাছাড়া আমাদের সংবিধানে ধর্মীয়
স্বাধীনতার এবং সকল সম্প্রদায়ের সমান
অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে,
একইসঙ্গে ইসলামকে প্রধান ধর্ম ঘোষণা
করে নিজেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র
হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ইসলামী আইন ও গনতন্ত্রের মধ্যে
পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্ট্রা করা হলো।
.
*রসূল(সাঃ) ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে
গণতন্ত্রকে বা প্রচলিত অন্য কোনো
ব্যবস্থাপনাকে মেনে নেননি। নেওয়ার
প্রশ্নই আসেনা, কারণ তিঁনি কিতাব
প্রাপ্ত হয়েছেন আল্লাহর কাছ
থেকে,এ্যারিষ্টটলের কাছ থেকে নয় বা
রোমের বাদশাহের কাছ থেকে নয়।
.
*তাই ইসলামী রাজনিতী তে গনতন্ত্র
মেনে নেয়া যায় না।
.
*গণতন্ত্রের জন্মদাতা হলেন এ্যরিষ্টটল
এবং তিনি প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
এ ব্যবস্থাপনা তৈরী করেছেন। এরপর
তারই পথ ধরে যুগে যুগে গণতন্ত্রের অনেক
প্রবক্তা এসেছেন এবং গণতন্ত্রের মূল সূত্র
ঠিক রেখে তাকে নানাভাবে
সংজ্ঞায়িত করেছেন।
.
আমরা যদি গণতন্ত্র সম্পর্কে বলি –
আল-কোরআন ও গণতন্ত্রের মধ্যে
পার্থক্যঃ
.
.
# আল-কুরআনঃ “যাবতীয় ক্ষমতা
শুধুমাত্র আল্লাহরই
জন্য|” [২:১৬৫]গনতন্ত্রঃ জনগনই সকল
ক্ষমতার উৎস ।
.
# আল-কুরআনঃ “আল্লাহ ছাড়া কারও
বিধান দেবার ক্ষমতা
নেই।” [১২:৪০]গনতন্ত্রঃ আইন প্রণয়নের
ক্ষমতা জনগন, সংসদ, মন্ত্রী-এমপির
(মদ, পতিতালয় বৈধও হতে পারে) ।
.
# আল-কুরআনঃ আল্লাহ তাআলা
সার্বভৌমত্বের মালিক। [৩:২৬]গনতন্ত্রঃ
সার্বভৌমত্বের মালিক জনগন।
.
# আল-কুরআনঃ “(হে নবী) আপনি যদি
অধিকাংশের রায়কে মেনে নেন
তাহলে তারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে
ছাড়বে|” [৬:১১৬]গনতন্ত্রঃ অধিকাংশের
রায়ই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
.
# আল-কুরআনঃ “আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-
বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম
করেছেন। ” [২:২৭৫]গনতন্ত্রঃ গণতন্ত্র
সূদভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে।
.
# আল-কুরআনঃ ব্যভিচার শাস্তিযোগ্য
অপরাধ। [২৪:২]গনতন্ত্রঃ সংসদ
পতিতালয়ের (যিনা) লাইসেন্স দেয়।
.
# আল-কুরআনঃ সৎকর্ম ও খোদা
ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ
ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের
সহায়তা করো না। [৫:২]গনতন্ত্রঃ
অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থী নিজের
সুনাম ও প্রতিদ্বন্দ্বীর কুৎসা রটায়।
.
# আল-কুরআনঃ মদ, জুয়া, লটারী
নিষিদ্ধ। [৫:৯০]গনতন্ত্রঃ মদ এর
লাইসেন্স দেয়। জুয়া, লটারী বৈধ।
.
# আল-কুরআনঃ “হে মুমিণগণ! তোমরা
ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে
গ্রহণ করো না।তারা একে অপরের বন্ধু।
তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে
বন্ধুত্ব করবে, সেতাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন
করেন না। ” [৫:৫১]
গনতন্ত্রঃ কোন সমস্যা
নাই। যার সাথে ইচ্ছা
(আমেরিকা, ইসরাইল) বন্ধুত্ব কর।এখন
সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে—- গনতন্ত্র
গ্রহন করবেন নাকি ইসলাম ?
“যারা আমার আবতীর্ণকরা বিধান
দ্বারা সমাজে বিধান দেয়না বা
শাসনকাজ পরিচালনা করেনা , তারাই
কাফির, …তারাই জালিম, …তারাই
ফাসিক।”(সূরা মায়েদাহঃ ৪৪-৪৬)
.
সুতরাং যারা গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়
দেশ পরিচালনা করছে তারা কাফির। আর
যারা এই কাফিরদের উদ্ভাবিত সুদ-
ভিত্তিক অর্থনীতি পরিচলনা করে, সুদ-
প্রথা সমর্থন করে, সুদ ভিত্তিক
প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত তারাও কুফরী
করছে।
.
আর এই কাফিরদের যারা সমর্থন করে
তাদের জন্য রাসূল (সাঃ) ইরশাদ
করেন-“ যে ব্যক্তি কোন জাতির সাথে
সাদৃশ্য গ্রহণ করবে তাদের অনুকরণ এবং
তাদের মত হওয়ার চেষ্টা করবে, সে
তাদের মধ্যেই গণ্য হবে।“(আবু দাউদ
হাদীস নং ৪০৩১) তার অর্থ এটা দাড়ায়
যে যারা বাংলাদেশে গনতন্ত্র চায় ও
গনতান্ত্রিক নেতাদের সমর্থন করে
তারাও তাদের অন্তর্গত।
আমি অবশ্যই কাফেরদেরকে কঠিন আযাব
আস্বাদন করাব এবং আমি অবশ্যই
তাদেরকে তাদের মন্দ ও হীন কাজের
প্রতিফল দেব। এটা আল্লাহর শত্রুদের
শাস্তি-জাহান্নাম। তাতে তাদের জন্যে
রয়েছে স্থায়ী আবাস, আমার আয়াতসমূহ
অস্বীকার করার প্রতিফলস্বরূপ।-(সূরা হা-
মীম সিজদাহঃ ২৭-২৮)
.
তোমরা কি ধর্মগ্রন্থের অংশবিশেষে
বিশ্বাস কর ও অন্য অংশে অবিশ্বাস
পোষণ কর? অতএব তোমাদের মধ্যের
যারা এরকম করে তাদের ইহজীবনে
লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার আছে?
আর কিয়ামতের দিনে তাদের ফেরত
পাঠানো হবে কঠোরতম শাস্তিতে। আর
তোমরা যা করছো আল্লাহ্ সে-বিষয়ে
অজ্ঞাত নন।(সূরা বাকারাহ আয়াত ৮৫)
.
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে
ফায়সালা করলে কোন মু’মিন পুরুষ কিংবা
মু’মিন নারীর নিজেদের কোন ব্যাপারে
অন্য কোন সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকবে
না। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য
করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।”(সূরা
আহযাব ৩৬)
.
তারা কি একথা জেনে নেয়নি যে,
আল্লাহর সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে
যে মোকাবেলা করে তার জন্যে
নির্ধারিত রয়েছে দোযখ; তাতে সব সময়
থাকবে।এটিই হল মহা-অপমান।(সূরা
তাওবাঃ৬৩)
.
*ইসলামের সাথে গণতন্ত্রের যে সমস্ত
মৌলিক পার্থক্য রয়েছে তা হলো,
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
.
(১) “আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন তোমাদের
মালিক,সার্বভৌমত্ব তারই।”(আল-
কুরআন,৩৫:১৩)“অতএব পবীত্র ও মহান সে
আল্লাহ,যিনি প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর
সার্বভৌম ক্ষমতার একচ্ছত্র
অধিপতি।”(আল-কুরআন,৩৬:৮৩)“তুমি কি
জাননা যে, আসমানসমূহ ও যমীনসমূহের
যাবতীয় সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ
তায়ালার জন্য নির্দিষ্ট,তিঁনি ছাড়া
তোমাদের কোন বন্ধু নেই, কোন
সাহায্যকারী নেই ?”(আল-কুরআন,২ঃ১০৭)
কিন্তু গণতন্ত্রে বলা হয়েছে “সকল
সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র মালিক জনগণ। ”
.
(২) গণতন্ত্রে দলীয় শাসন থাকে অর্থাৎ
রাষ্ট্র একটি দলের লোকেরা শাসন করে।
কিন্তু ইসলামিক রাষ্ট্রে বহু দলের
উপস্থিতি থাকলেও, কোন দল শাসন
ক্ষমতা পরিচালনা করতে পারবেনা, কারণ
এতে পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা খুব বেশী
এবং আমরা তা বর্তমান ব্যবস্থাপনায়
দেখতে পাই। খলিফা (ইসলামী রাষ্ট্রের
প্রধান)বা জনগণের প্রতিনিধি কোন
দলের লোক হলে তিনি দল ত্যাগ করে
খলিফা হবেন। দলের সাথে তার কোন
সংযোগ থাকবে না এবং তিনি যোগ্যতার
ভিত্তিতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের
মধ্যথেকে বিভিন্ন বিষয়ে কর্মকর্তা
নিয়োগ করবেন।
.
(৩) গণতন্ত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত
শাসক ক্ষমতায় থাকে। কিন্তু ইসলামী
খিলাফতে শাসক যতক্ষণ যোগ্যতার সাথে
শাসনকার্য পরিচালিত করতে পারবেন
ততক্ষণ থাকবেন,তিনি ব্যর্থ হলে ঐ
মুহুর্তেই বিদায় নিবেন বা বিদায় করা
হবে (খিলাফতকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং
খলিফাকে নির্বাচিত করা যেমন ফর্জ
তেমনিভাবে তিনি কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী
রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হলে তাকে
হটিয়ে দেওয়াও ফর্জ দায়িত্ব,যা জনতা
ইবাদত হিসেবে পালন করে।) ।
.
(৪) গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ
সদস্যের মতামতে একটি আইন পাস হয় এবং
তা যেকোন ব্যাপারেই হতে পারে।
আইনসভার সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্য যদি বলে-
মানুষ হত্যা করা উচিৎ তাহলে, তা আইনে
পরিনত হবে
(ইরাক,ফিলিস্থিন,লেবানন,আফগানিস্থানে
নিরপরাধ মানুষের উপর হত্যাযজ্ঞ
চালানোর আগে আমেরিকা,ইসরাইল এবং
সহযোগী অন্য দেশগুলোর আইনসভায় এ
সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপিত হয় এবং
সংখ্যা গরিষ্ঠের ভিত্তিতে তা পাস হয়
অর্থাৎ নিরপরাধ মানুষ মারার ব্যাপারটি
রাষ্ট্রীয়ভাবে জায়েজ করা হয়,এ
ব্যাপারে আপনারা অবগত আছেন।)
কিন্তু ইসলামে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের
মতামত যদি ইসলামের সুস্পষ্ট আইনের
বিরোধী হয় তাহলে তা কখনই গ্রহন
যোগ্যতা পাবেনা। তবে এমন কোন
ব্যাপার যদি হয়- যার সাথে ইসলামের
কোন বিরোধ নেই তবে সে সমস্ত ক্ষেত্রে
সংখ্যা গরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা
বলেনঃ
“যারা আমার আবতীর্ণকরা বিধান
দ্বারা সমাজে বিধান দেয়না বা
শাসনকাজ পরিচালনা করেনা , তারাই
কাফির, …তারাই জালিম, …তারাই
ফাসিক।”(আল-কুরআন,৫ঃ৪৪-৪৬)
.
(৫) গণতন্ত্রে জনগণকে শাসন
তত্বাবধানের দ্বায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে জনগণের রায় নিয়ে
যেই ক্ষমতায় যায়, সমস্ত ক্ষমতা
তাদেরকে কেন্দ্র করে
আবর্তিত,পরিচালিত হয়,শাসন ক্ষমতার
৪/৫ বছরে জনগণের আসলেই কোন ক্ষমতা
থাকেনা। শাসকগোষ্ঠী ভুল করলে বা
জনস্বার্থ বিরুদ্ধ কাজ করলে তা
সংশোধনের জন্য ৪/৫ বছর অপেক্ষা করতে
হয় নির্বাচনের মাধ্যমে আরেকটি ভাল
রায় দেওয়ার জন্য এবং সেটি মিস্ হলে
বা জনগণ প্রতারিত হলে আবারও ৪/৫ বছর
কপাল চাপড়াতে হয়।
কিন্তু ইসলামী খিলাফত পদ্ধতিতে
প্রতিনিধি বা খলিফা যে কোনো সময় ভুল
করলে সমাজের যে কোন শ্রেণীর লোক
সামনা সামনি খলিফার ভুল ধরিয়ে দিতে
পারে, কৈফিয়ৎ নিতে পারে, এমনকি
তাকে কটাক্ষ করে কথা বললেও খলিফার
কিছুই করার নেই। কারণ ব্যক্তিগতভাবে
রাগান্বিত হয়ে তিনি কিছুই করতে পারেন
না। ভুল শুধরাতে ব্যর্থ হলে তাকে
তাৎক্ষনিকভাবে বিদায় নিতে হয়।
.
(৬) গণতন্ত্রে নেতা নিজের চরিত্র
সম্পর্কে উত্তম বয়ান করে তাকে ভোট
দিতে বলেন এবং তিনি নেতৃত্বের যোগ্য
বলে ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয় অন্য
প্রার্থী তার থেকে কোন ক্রমেই ভালো
নয় একথা নিশ্চয়তার সাথে প্রচার করেন
ও প্রকাশ্যভাবে বা অপ্রকাশ্যভাবে তার
গীবত করেন। অনেক সময় তার বিরুদ্ধে
কাল্পনিক অভিযোগ পেশ করেন এবং
অন্যায়,কুটিল,অদ্ভুত চাল চালেন যাতে
মানুষ তাকে ফেরেশতা এবং তার
প্রতিপক্ষকে শয়তান মনে করে।
কিন্তু ইসলামে নেতৃত্ব চাইলেই- তিনি
নেতৃত্ব দানে অযোগ্য বলে বিবেচিত হন
এবং তিনি বাদ পড়েন বা বিদায় হন। রসুল
(সাঃ) নেতৃত্ব দাবী করা লোকটিকে বাদ
দিয়ে অন্যদের মধ্য থেকে নেতা খুঁজতে
বলেছেন, কারণ নেতৃত্ব চেয়ে নেওয়ার
কারনে সে নেতৃত্বের যোগ্যতা
হারিয়েছে(একদা দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি
এসে রসূল (সাঃ)কে বললেন,ইয়া
রাসুলুল্লাহ ! আমাদেরকে আমাদের
এলাকার শাসক মনোনিত করুন। রসূল
(সাঃ)বললেন,“আমরা এরুপ ব্যক্তিকে
কোন পদে মনোনিত করি না,যে তার পদ
চেয়ে নেয় বা পদের প্রতি লালায়িত
হয়।”(বুখারী))। আর খলিফা নির্বাচনের পর
যদি অন্য কেউ এসে বলে এ ব্যক্তি
খলিফা হবার অযোগ্য,আমিই যোগ্য,
আমাকে খলিফা বানানো হোক তাহলে
রসূল (সাঃ) বলেন- এ লোকটিকে হত্যা কর।
কারণ সে ফেত্না সৃষ্টি করতে চায়,ফেৎনা
হত্যা অপেক্ষা ভয়াবহ। আর খলিফার
ব্যাপারটা এমন যে খলিফা আল্লাহর আইন
বাস্তবায়ন করেন।
কুরআন,সুন্নাহ,ইয্মা,ইজতিহাদ অনুসরণ করে
সমস্যার সমাধান করেন। মৌলিক ক্ষেত্রে
নিজের মতামত দিতে তিনি অক্ষম তাই
আল্লাহর প্রতি অনুগত মানুষ তার কথায়
দ্বিমত পোষণ করেনা বরং আল্লাহর
ইবাদতের স্বার্থেই জনগণ খলিফার
আদেশ,উপদেশ,নিষেধ মেনে চলে। এতে
জনগনের ঐক্যে ফাটল ধরার সম্ভাবনা খুবই
কম (রসূল(সাঃ)বলেন,‘কোন ব্যক্তি যদি
আমীরের (রাষ্ট্রের শাসক বা
খলিফা)আনুগত্য ছিন্ন করে এক বিঘৎও দূরে
সরে যায় এবং এই অবস্থায় তার মৃত্যু হয়
,তাহলে সেই মৃত্যু হবে তার
জাহেলিয়াতের মৃত্যু।’-মুসলিম শরীফ) ।
খলিফা নির্বাচন নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির
আশংকা কম, কারণ এত কঠিন দায়ীত্ব
সাধারনতঃ কেউ নিতে চায় না। তাছাড়া
এ দায়ীত্বের সাথে বৈষয়িক অনেক
লোকসান জড়িত।
.
(৭) গণতন্ত্রে সরকারী দল – বিরোধী দল
থাকে এবং তারা একে অন্যের প্রতিপক্ষ
কিন্তু খিলাফতে বহু দলের অস্তিত্ব
থাকলেও কোন দল সরকার গঠন করে না।
প্রত্যেকটা দলের থেকে মানুষেরা তাদের
নিজেদের কাছে
বিশ্বাসযোগ্য,ঈমানদার,আলিম বা উচ্চ
শিক্ষিত,উত্তম চরিত্রবান,যেকোন
পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এমন
এক বা একাধিক জনকে খলিফা মনোনিত
করতে পারেন এবং এরপর নির্বাচন
কমিটির(নির্বাচন কমিটির সদস্যরা
খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হতে পারবেন
না) কাছে পাঠাবেন। যাকে মতোনিত
করা হবে বা নির্বাচিত করা হবে তিনি
নিজে এ পদ চাইতে পারবেন না,তবে
মনোনিত করা হলে বিশেষ গুরুতর কারণ
ছাড়া এ নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করতে
পারবেন না। খলিফা কোন দলের হলেও
তিনি দলের প্রতিনিধিত্ব করেন না।
খলিফা হবার আগে দলত্যাগ করেন এবং
তার কাছে তখন জাতি, ধমর্, বর্ণ
নির্বিশেষে সকল মানুষ সমান। এটি
খলিফার কাছে ফর্জ ইবাদত তাই প্রকাশ্য
ও গুপ্ত উভয় অবস্থাতে তার
নীতি,প্রচেষ্টা কল্যানকর হবে।
.
(৮) গণতন্ত্রে শাসক এমন কতৃপক্ষের নিকট
জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাসী হয়
যাদেরকে(মানুষ) শাসক ফাঁকি দিতে
পারে, আপোস রফা করতে পারে। কোন
কোন ক্ষেত্রে মানুষের পক্ষে শাসকের
সুক্ষ্ম ফাঁকি ধরা সম্ভব হয়না, কারণ সে
সীমাবদ্ধ জীব।
কিন্তু ইসলামী ব্যবস্থাপনা বা খিলাফতে
শাসক স্রষ্টা আল্লাহর নিকট
জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাসী হয় আর
আল্লাহ প্রকাশ্য ও গুপ্ত সকল অবস্থা
অবগত। তিনি
মানুষিকতা,বাহ্যিকতা,অতীত,বর্তমান,ভবিষ্যত
সবকিছুর হিসাব রাখেন। আল্লাহকে
ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়,এটি খলিফা
জানেন,মানেন, কারণ তিনি ঈমানদার।
তিনি আল্লাহর নিকট কৈফিয়ৎ প্রদানে
বিশ্বাসী।
.
(৯) গণতন্ত্র সমাজে পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠা
করে। কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে- কুরআন
ও সুন্নাহ যা পদ্ধতিগতভাবে পুঁজিবাদকে
পুরোপুরি খতম করে।
.
(১০) গণতান্ত্রিক শাসনে সমাজে সরকারী
দল ,বিরোধী দলের বিরোধ ছাড়াও উঁচু
শেণী ও নীচু শ্রেণীর মধ্যে মারাত্মক
বৈষম্য সৃষ্টি হয়। ইসলামী ব্যবস্থাপনা বা
খিলাফতে সরকারী দল,বিরোধী দল
থাকে না এবং ধনী ও দরীদ্রের বৈষম্য
থাকে না।
.
(১১) গণতন্ত্রে সম্পদ শুধু ধনীদের মধ্যে
আবর্তন করে এতে ধনী হয় আরো ধনী,গরীব
হয় আরো গরীব। এ ব্যবস্থায় গরীবের কাছ
থেকে সম্পদ পদ্ধতিগতভাবে ধনীর হাতে
গিয়ে আটকে থাকে।
খিলাফতে সম্পদ ধনী ও গবীবের মাঝে
আবর্তন করে। ইসলামিক অর্থনীতি
প্রতিষ্ঠিত হবার কারনে ধনীরা গরীবের
প্রাপ্য সম্পদ ফর্জ ইবাদত হিসেবে প্রদান
করতে বাধ্য থাকে। কতিপয় ব্যক্তি কতৃক
নয় বরং রাষ্ট্র কতৃক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত
হয় ,এতে সম্পদের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়
এবং সকল নাগরিকের কল্যান সাধন হয়।
.
(১২) গণতন্ত্রে জনগণের সম্পদ ব্যক্তি বা
তাদের প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া
হয় আর ব্যক্তির বৈশিষ্ট হলো সে কখনই
লোকসান করতে চায় না,যে ভাবেই হোক
না কেন সে লাভ করতে চায়। ফলে তাদের
লাভের চিন্তা জনগণের অপরিসীম দুঃখ
কষ্ট বয়ে আনে।
কিন্তু খিলাফতে খলিফা বা শাসক
জনতার পক্ষ থেকে তাদের সম্পদের
(পানি,বনভূমি,তেল,গ্যাস,কয়লা ইত্যাদি)
সুষ্ঠ ব্যবহার করেন এবং সুষম বন্টন করেন।
খিলাফত সরকার যদি হিসাব করে দেখে
তারা জনগণকে সরকারী বিভিন্ন
সুবিধা,সেবা বিনা মূল্যে প্রদান করতে
পারছে,তবে খিলাফত সরকার জনগণকে
সেগুলো ফ্রি দিয়ে থাকে। এ সরকার
লাভের চিন্তা করে না বরং সেবার
দিকটিই প্রাধান্য পায়। শাসক এ কাজটি
ইবাদত হিসেবে করেন ফলে
নিষ্ঠা,আন্তরিকতা,একাগ্রতার ছাপ
থাকে প্রতিটি বৈধ কাজে।
.
(১৩) গণতন্ত্রে কিছু পুঁজিপতি বাজার
নিয়ন্ত্রণ করে এবং তারা তাদের লাভের
জন্যে কৃত্তিম সঙ্কট সৃষ্টি করে লাভবান
হবার চেষ্টা করে। জনগণের ক্রয় ক্ষমতা
এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়,মুনাফাই
বিবেচ্য। গণতন্ত্রে এটা বৈধ এবং মুক্ত
বাজার অর্থনীতিতে(পুঁজিবাদে) শাসকের
কিছুই বলার নেই।
কিন্তু খিলাফতে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা
অনুযায়ী পণ্য দ্রব্যের মূল্য নিরুপিত
হয়,সরকার ব্যপক ভূর্তুকী দেয়। কতিপয়
ব্যক্তি এখানে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে না।
বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সরকার এবং পণ্য
দ্রব্য মজুদ করে কৃত্তিম সঙ্কট সৃষ্টিকারীর
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বন্দোবস্ত রয়েছে।
তাছাড়া শাসক জনতাকে আল্লাহর ভয়ে
এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আচরণ
করতে উদ্বুদ্ধ করেন। ফলে
সামাজিক,অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি
এখানে স্বতস্ফুর্ত।
.
(১৪) গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধনী,
প্রভাবশালী শ্রেণী বেশী সম্পদশালী
হবার কারনে এবং গরীবেরা
পদ্ধতিগতভাবে বঞ্চিত হবার কারনে
সমাজে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়।
বঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ হয় এবং তাদের ক্ষোভের
বহির্প্রকাশে ধনীরা অধিক পরিমানে
নিরাপত্তা হীনতায় ভূগতে
থাকে,মধ্যবিত্তরাও এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত
হয়। সমাজে একটি অস্থিতিশীল
পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কিন্তু খিলাফত ব্যবস্থায় ধনী লোকেরা
গরীবকে সম্পদের ভাগ দেওয়ার কারনে
উভয়ের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ অবস্থা বিরাজ
করে ফলে ধনীরা গরীব কতৃক ক্ষতির
শিকার হয়না বরং তারাই তাকে
নিরাপত্তা দিতে থাকে।
.
(১৫) গণতন্ত্র তৈরী হয়েছে ইসলাম বিরুদ্ধ
চিন্তা চেতনা থেকে এবং এটি
কুরআন,সুন্নাহ বহির্ভূত। কিন্তু ইসলামী
খিলাফত ব্যবস্থা আল্লাহ কতৃক মনোনিত
এবং রসূল(সাঃ)কতৃক অনুসৃত। গণতন্ত্র তৈরী
হয়েছে সৃষ্ট জীব মানুষের
চিন্তা,পরিকল্পনা থেকে অপরদিকে
খিলাফত ব্যবস্থা তৈরী হয়েছে মহান
স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার পরিকল্পনা
থেকে।
.
“যখন তোমাদের ধনী শ্রেণী কৃপণ হবে,
যখন তোমাদের যাবতীয় কাজে কর্তৃত্ব
তোমাদের নারীদের হাতে চলে যাবে,
তখন তোমাদের জন্য পৃথিবীর উপরিভাগের
চেয়ে অভ্যন্তর ভাগ অধিক কল্যাণকর
হবে।” (তিরমিযী)
.
“হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। যখন নবী করীম
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর
নিকট এ সংবাদ পৌঁছলো যে, (ইরানী)
পারস্যের জনগণ কিসরার কন্যাকে
(মেয়ে) তাদের বাদশাহ মনোনীত করেছে,
তখন তিনি বললেন, সে জাতি কখনো
সাফল্য অর্জন করতে পারে না, যে জাতি
স্বীয় কাজকর্মের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বভার
একজন নারীর হাতে সোপর্দ
করে।” (বুখারী ও তিরমিযী)
.
* সবকিছু পর্যালোচনা করে কি বলা
যায় না ইসলামী আইনে গনতন্ত্র ও নারী
নেত্রীত্ব হারাম?

 
back to top